মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সন্তান তারেক রহমান। তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত তারেক জিয়া নামে; যেখানে ‘জিয়া’ অংশটি এসেছে তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থেকে।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং এরপর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন।
তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা
তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৮৫–৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে দেন এবং বস্ত্রশিল্প ও নৌ-যোগাযোগ খাতে ব্যবসা শুরু করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট | আসন ৫০৫টি
রাজনীতিতে পদার্পণ
তারেক রহমান বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা শুরু হয় অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সেই। ২০০০ সালের শুরুতে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএনপির তরুণ কর্মীদের কাছে তিনি একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে গিয়েও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়। ২০০২ সালের পর তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সারা দেশে ব্যাপক গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় মতবিনিময় সভায় যোগ দেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন।
তারেক রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। কারাগারে থাকার সময় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং এর ফলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জামিন পাওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কোনোটিই এখনও প্রমাণিত হয়নি।
জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান দলটির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন। এর মাধ্যমে ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন করে শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।