শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা তৈরিতে চালু হচ্ছে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’


দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা স্টার্ট-আপ চালু করতে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে এই ফান্ড ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, আগামী মাস থেকেই এই ঐতিহাসিক ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রেস কনফারেন্সে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপের বিস্তারিত খতিয়ান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হয়।

এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নানামুখী উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকারের এসব জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম ইতোমধ্যে দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন এক আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও গতিশীল করবে বলে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রথম মাস থেকেই অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে শুরু হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং যুব উন্নয়ন

তরুণদের আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে যারা দেশের বাইরে যেতে চান, সেইসব শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা আরও সহজ ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

একই সাথে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিমানবন্দর এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে। তরুণদের মেধা ও ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের জন্য দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় ‘স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমকে নতুন আঙ্গিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, যা কিশোর ও যুবকদের সৃজনশীল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে।

স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান ও মানবিক সংস্কার

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। উপদেষ্টা জানান, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার অত্যন্ত দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা আমদানি করে দেশের প্রায় শতভাগ শিশুকে সফলভাবে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।

কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।