আসন্ন পবিত্র রমজানকে ঘিরে সারা দেশের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি (Sehri Iftar Time 2026) প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। তবে এই সময়সূচি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঢাকার সময় অনুসারে ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রথম রোজার সাহরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট।
৬৪ জেলার জন্য সাহ্রি ও ইফতারের পৃথক সময়সূচি
এবার দেশের ৬৪ জেলার জন্য আলাদাভাবে ৬৪টি পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করেছে ফাউন্ডেশন। ফলে আগের মতো ঢাকার সময়ের সঙ্গে দূরত্ব অনুযায়ী মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে অন্য জেলার সময় নির্ধারণ করতে হবে না। প্রতিটি জেলার মুসল্লিরা নিজ নিজ জেলার নির্ধারিত সময় অনুসরণ করেই সাহরি ও ইফতার সম্পন্ন করতে পারবেন।
এ উদ্যোগের ফলে রোজাদাররা আরও নির্ভুলভাবে পবিত্র রমজানের সাহরি ও ইফতার পালন করতে সক্ষম হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সময় নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা
ফাউন্ডেশন তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করেছে যে, সময়সূচিতে উল্লেখিত সাহরির শেষ সময়ই মূলত ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সময়।
একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, একটি জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্বের কারণে সময়ের কিছুটা পার্থক্য হয়ে থাকে। এ ভারসাম্য রক্ষায় সাহরির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে জেলার পূর্ব প্রান্তের সময় অনুযায়ী, আর ফজরের আজানের সময় ধরা হয়েছে জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময় অনুসারে।
অন্যদিকে ইফতারের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময়কে ভিত্তি ধরে।
ঢাকা জেলার সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি
| রমজান | তারিখ | বার | সাহরি | ইফতার |
| * ০১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫-১২ মি. | ৫:৫৮ মি. |
| ০২ | ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫-১১ মি. | ৫:৫৮ মি. |
| ০৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫-১১ মি. | ৫:৫৯ মি. |
| ০৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ৫-১০ মি. | ৫:৫৯ মি. |
| ০৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ৫-০৯ মি. | ৬:০০ মি. |
| ০৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫-০৮ মি. | ৬:০০ মি. |
| ০৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫-০৮ মি. | ৬-০১ মি. |
| ০৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০৭ মি. | ৬-০১ মি. |
| ০৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:০৬ মি. | ৬-০২ মি. |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:০৫ মি. | ৬-০২ মি. |
| ১১ | ০১ মার্চ | রবিবার | ৫:০৫ মি. | ৬-০৩ মি. |
| ১২ | ০২ মার্চ | সোমবার | ৫:০৪মি. | ৬-০৩ মি. |
| ১৩ | ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫:০৩ মি. | ৬-০৪ মি. |
| ১৪ | ০৪ মার্চ | বুধবার | ৫:০২ মি. | ৬-০৪ মি. |
| ১৫ | ০৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৫:০১ মি. | ৬-০৫ মি. |
| ১৬ | ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ৫:০০ মি. | ৬-০৫ মি. |
| ১৭ | ০৭ মার্চ | শনিবার | ৪-৫৯ মি. | ৬-০৬ মি. |
| ১৮ | ০৮ মার্চ | রবিবার | ৪-৫৮ মি. | ৬-০৬ মি. |
| ১৯ | ০৯ মার্চ | সোমবার | ৪-৫৭ মি. | ৬:০৭ মি. |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪-৫৭ মি. | ৬:০৭ মি. |
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ৪-৫৬ মি. | ৬:০৭ মি. |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫৫ মি. | ৬:০৮ মি. |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪-৫৪ মি. | ৬:০৮ মি. |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪-৫৩ মি. | ৬:০৯ মি. |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪-৫২ মি. | ৬:০৯ মি. |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪-৫১ মি. | ৬-১০ মি. |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪-৫০ মি. | ৬-১০ মি. |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪-৪৯ মি. | ৬-১০ মি. |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪-৪৮ মি. | ৬-১১ মি. |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ৪-৪৭ মি. | ৬-১১ মি. |

রোজা ভঙ্গের কারণ
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য এক পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। মহান আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মুমিনের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। রোজার মাধ্যমে মানুষ তাকওয়া অর্জন করে এবং আত্মসংযমের শিক্ষা গ্রহণ করে। তবে, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট কারণ রোজা ভঙ্গ করে, আর কিছু কারণে তা মাকরুহ হয়ে যায়। তাই, রোজার শুদ্ধতা ও যথার্থতা রক্ষা করার জন্য এসব বিধান জানা ও মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ | Sehri Iftar Time 2025
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়:
- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।
- মুখে আসা অধিকাংশ বমি গিলে ফেললে।
- নারীদের মাসিক বা সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব হলে।
- ইসলাম ত্যাগ করলে।
- গ্লুকোজ, শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন গ্রহণ করলে।
- প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে।
- রোজাদারকে কেউ জোর করে কিছু খাওয়ালে।
- ভুলক্রমে ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সূর্যাস্তের আগেই ইফতার করলে।
- মুখভরে বমি হলে।
- ভুলবশত কিছু খাওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও কিছু খেলে।
- বৃষ্টির পানি মুখে এসে গেলে এবং তা গিলে ফেললে।
- কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে।
- দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলার পরিমাণ কিছু বের করে খেয়ে ফেললে।
- অল্প বমি আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে।
- রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজু করতে গিয়ে কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় তা ভেতরে চলে গেলে। (উৎস: ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)
রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ
- সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় হারাম কোনো খাবার গ্রহণ করলে।
- কোনো কারণ ছাড়া কিছু চিবালে।
- মুখে কিছু রেখে না খেলে।
- গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়ার ফলে পেটে পানি চলে গেলে।
- ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় মুখে থুতু ধরে রেখে পরে গিলে ফেললে।
- সারা দিন শরীর নাপাক রাখলে।
- পাউডার, পেস্ট ও মাজন দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে।
- মুখে গুল ব্যবহার করলে এবং তা থুতুর সঙ্গে গলায় চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে।
- কারো গিবত বা পরনিন্দা করলে।
- মিথ্যা কথা বললে।
- ঝগড়া-বিবাদ করলে।
- যৌন উদ্দীপক কিছু দেখা বা শোনলে।
- নাচ, গান, সিনেমা দেখা ও তাতে মজে থাকলে।
- রান্নার সময় লবণ চেখে দেখা বা স্বাদ নেওয়া, যদিও বিশেষ প্রয়োজনে বৈধ ধরা হয়।
পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ বিধান। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখলে বা রোজা ভঙ্গ করলে তার জন্য পরকালে কঠিন পরিণতির সতর্কবার্তা রয়েছে, এমনকি জান্নাতে প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে রোজার পবিত্রতা ও শুদ্ধতা বজায় রাখা এবং শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে সিয়াম পালন করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।