আগামী জুলাই মাস থেকেই দেশের প্রতিটি উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসারে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা বিনামূল্যে করা হয়েছে এবং তাঁদের জন্য মেধাভিত্তিক বৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
২৫ মে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে পুরোপুরি আধুনিকায়ন করতে নানামুখী টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং স্মার্ট ক্লাসরুম সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) চালু এবং ভর্তির পুরো প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা ও যুগোপযোগী কারিকুলাম
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা খাতের (ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া) মধ্যে একটি কার্যকর ও সমন্বিত লিংকেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদাকে মাথায় রেখেই সাজানো হচ্ছে আধুনিক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম।
“শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যার ভিত্তি হবে আধুনিক প্রযুক্তি। তবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, নতুন প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের ব্যবহারিক দিকটিকেও সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।”
— মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা।
সরকারের ১০০ দিনের মাথায় ঘোষিত এসব সিদ্ধান্ত দেশের প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।