পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল খুঁজে বের করছে। আগে যেখানে হাতে বা কাগজে নকল লিখে আনার ঘটনা বেশি দেখা যেত, সেখানে এখন পরীক্ষায় জালিয়াতির নতুন মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে AI চশমা (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চশমা)। এই স্মার্ট চশমার লেন্সেই ভেসে ওঠে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের প্রবণতা বাড়ছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ২৭ জুন ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষায় দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ আটক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে প্রথমবারের মতো এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হলো।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায়ও এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর তিনি অস্বাভাবিকভাবে নিজের চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, চশমাটি থেকে তাপ নির্গত হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে চীন তাদের কলেজে ভর্তির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের সব ধরনের চশমা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি বছরে চীনের কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
কীভাবে কাজ করে AI চশমা?
বিশ্বজুড়ে AI চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা ‘রে-ব্যান’ ব্র্যান্ডের এআই চশমা বাজারে আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মডেলের এআই চশমা উন্মুক্ত করে। শুধু গত বছরেই মেটা প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে।
আরও পড়ুন: খাতা চ্যালেঞ্জ এ শুধু নম্বর যোগ নয়, উত্তরপত্রের মূল্যায়নও পুনরায় যাচাই হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় এআই চশমা ব্যবহার করে নকল করা তুলনামূলক সহজ।
পাতলা নকশার এসব চশমা সহজে নজরে পড়ে না। একই সঙ্গে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আধুনিক এআই ভাষা মডেল পরিচালনা করতে সক্ষম।
হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রফেসর মেং জিল্লি AI চশমা নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি বাজারে পাওয়া একটি এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা পরিচালনা করেন।
তার পরীক্ষায় দেখা যায়, পরীক্ষার্থী শুধু প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই চশমাটি প্রশ্নগুলো বৃহৎ এআই ভাষা মডেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই মডেল উত্তর তৈরি করে এবং সেই উত্তর চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে।
তিনি ১০০ জন মক পরীক্ষার্থীর ওপর এই পরীক্ষা চালান। ফলাফলে দেখা যায়, যারা AI চশমার মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন, তারা পরীক্ষার সেরা পাঁচজনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন