প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে মামলার রায় ২ জুলাই


দেশের শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার রায় আগামী ২ জুলাই ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ। এই রায়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং সমসংখ্যক শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৮ হাজার ৫৫৮টি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১ হাজার ১২০টি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ হাজার ৯১৪টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কারণে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির বিষয় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

মামলাজটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে আছে। ফলে শূন্য থাকা এসব পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগ কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা প্রশাসনে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা-সংক্রান্ত মামলাগুলোকে আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ জন্য নির্দিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নিতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের রায়ের অপেক্ষায় শিক্ষা খাত

জানা গেছে, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা (গ্রেডেশন) প্রণয়ন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রদান এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি।

এ সংক্রান্ত প্রথম রিট ২০১৭ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে একই বিষয়ে আরও কয়েকটি রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের পর বিষয়টি ২০২৩ সালে আপিল বিভাগে যায়, যা সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: নতুন কারিকুলামে কমবে কোচিং নির্ভরতা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

গত ১৮ জুন এই আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আগামী ২ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই একটি মামলার রায়ের ওপর সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি এবং দেশের সমসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের বিষয় নির্ভর করছে।

আইনজীবীদের আশা, প্রত্যাশিত রায় হলে শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

এদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা খাতে মামলাজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আইনি জটিলতা ও মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় চার মাস ধরে আদালতে এসব মামলার নিষ্পত্তির জন্য নিরলস চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মামলাগুলো দীর্ঘদিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে।

সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, আপিল বিভাগে অন্তত পাঁচবার শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হবে।