ঢাবির ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি


শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর বিদ্যমান নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখা এবং চলাচলের বিধিনিষেধ শিথিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধিরা।

তিন দফা দাবিতে কী রয়েছে

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে—ছাত্রী হলগুলোর প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে সব হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং অনুমতি সাপেক্ষে রাতযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ছাত্রীদের পরিবারের নারী সদস্যদের হলের কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: SSC Result 2026: মার্কশিটসহ এসএসসির ফলাফল দেখার নির্দেশিকা

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, সাংগঠনিক কার্যক্রম, পারিবারিক প্রয়োজন কিংবা জরুরি পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সময় হল থেকে বের হওয়া বা হলে প্রবেশের প্রয়োজন হতে পারে।

এ কারণে কেবল প্রবেশ ও বহির্গমনের সময়সীমা বাড়ানো নয়, বরং সার্বক্ষণিক হল খোলা রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম গঠনের পেছনের কারণ

‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি নারী হলে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ ও নিয়ম চালু রয়েছে। এসব নিয়মের কিছু অংশকে তারা বৈষম্যমূলক ও হয়রানিমূলক বলে মনে করছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে রবিবার রাতে নারী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধি, ডাকসু প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম গঠন এবং কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সানজানা চৌধুরী রাত্রি আরও বলেন, উপাচার্যের কাছে দাবিগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পাঁচটি নারী হলের প্রভোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হবে বলে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন। সেই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।