আগামী শিক্ষাবর্ষেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না। আগের মতোই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
একাদশে ভর্তিতে থাকছে না ভর্তি পরীক্ষা, এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই হবে শিক্ষার্থী নির্বাচন
আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না। আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর মেধা ও শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী ভর্তি সম্পন্ন হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের পর একাদশ শ্রেণির ভর্তিপদ্ধতিও পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আগের নিয়মই বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
আরও পড়ুন: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির স্নাতক ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দু-এক দিনের মধ্যেই চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এখনই তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ
চলতি বছরের (২০২৬) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট। এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় ফল প্রকাশের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারও আগের নিয়মেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে বিভিন্ন কোটা সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করা যায়। পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এই কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতি শুধু কলেজ ও মাদ্রাসার ভর্তি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৃথক প্রক্রিয়ায় ভর্তি সম্পন্ন করা হয়।
ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।