গ্রামে শিক্ষক সংকট দূর করতে শহরে থাকা শিক্ষকদের বদলির ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


দেশের গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে শহরে কর্মরত শিক্ষকদের আবার গ্রামে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষক গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও বিভিন্নভাবে শহরে কর্মরত রয়েছেন। এতে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে। এত বড় জনবল সংকট নিয়ে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে।

পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে তিনি জানান, চলতি বছর দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে একই ব্যবস্থা মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও চালু করা হবে।

তিনি বলেন, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের গুজব ছড়ানোর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলামসহ যশোর শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।